Home Bengali সূরা ১০৫: আল-ফীল (হাতি)

সূরা ১০৫: আল-ফীল (হাতি)

0

সূরা ১০৫: আল-ফীল (হাতি)-এর অনুপ্রেরণাদায়ক কাহিনী উদ্ঘাটন করুন—এটি আল্লাহর শক্তি ও সুরক্ষার এক কুরআনিক স্মারক, যা “হাতিওয়ালা বাহিনী”-এর অলৌকিক পরাজয়ের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

আল-ফীল

সূরা ১০৫ : আল-ফীল (হাতি)

ভূমিকা

সূরা আল-ফীল একটি সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত শক্তিশালী অধ্যায়, যা স্মরণ করিয়ে দেয় ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাকে—যখন আব্রাহা নামে এক শাসক যুদ্ধহাতির বাহিনী নিয়ে মক্কার কাবা ধ্বংস করতে এগিয়ে এসেছিল। এই সূরাটি আল্লাহর পবিত্র গৃহের প্রতি তাঁর অলৌকিক সুরক্ষা প্রদর্শন করে, এবং কেমন করে তিনি সেই আক্রমণকারীদের পরিকল্পনাকে ব্যর্থ করে দেন। সূরাটি শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ তাঁর পবিত্র স্থানসমূহ ও উদ্দেশ্যকে রক্ষা করেন এবং যারা তাঁর ইচ্ছার বিরোধিতা করে, তাদের পরিণতি তিনি নিজেই নির্ধারণ করেন।

সূরা আল-ফীল (হাতি): পাঠ্যাংশ
পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে।

(১) তুমি কি দেখনি, তোমার প্রতিপালক কেমন আচরণ করেছিলেন হাতিওয়ালাদের সঙ্গে?

(২) তিনি কি তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেননি?

(৩) এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন পাখির দল,

(৪) যারা তাদের ওপর বর্ষণ করছিল পোড়া মাটির কণার পাথর,

(৫) অতঃপর তিনি তাদের করে দিয়েছিলেন খাওয়া হয়ে যাওয়া তৃণভোজ্য আবর্জনার মতো।

You May Like:

সূরা ১০০: আল-আদিয়াত (দৌড়মান ঘোড়াসমূহ)

ব্যাখ্যা

এই সূরাটি নির্দেশ করে সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে, যা ইসলামের ইতিহাসে “হাতির বছর” নামে পরিচিত। এই ঘটনাটি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের অল্প কিছু আগে সংঘটিত হয়েছিল। ইয়েমেনের শাসক আব্রাহা মক্কার কাবা ধ্বংসের উদ্দেশ্যে একটি বিশাল বাহিনী ও যুদ্ধহাতি নিয়ে এগিয়ে আসে, যাতে মানুষ তার নির্মিত গির্জায় হজ পালন করতে যায়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁর অলৌকিক শক্তিতে হস্তক্ষেপ করেন—তিনি পাঠিয়ে দেন অসংখ্য পাখি, যারা পোড়া মাটির পাথর নিক্ষেপ করে সেই সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে ফেলে। ফলস্বরূপ, সেই শক্তিশালী বাহিনী পরিণত হয় ছিন্নভিন্ন তৃণাবশেষে।

এই সূরাটি আল্লাহর সর্বশক্তিমত্তা ও পবিত্র স্থানসমূহের প্রতি তাঁর সুরক্ষার ঘোষণাপত্র। এটি বিশ্বাসীদের আশ্বস্ত করে যে, যতই শত্রু শক্তিশালী হোক না কেন, আল্লাহর সুরক্ষা ও ন্যায়ের সামনে সে সর্বদা পরাজিত।

সূরা আল-ফীল সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১: সূরা ফীল (হাতি) সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
উত্তর: সূরা আল-ফীল সেই অলৌকিক ঘটনার কাহিনি বর্ণনা করে, যখন আল্লাহ আব্রাহার সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করেন, যারা হাতি নিয়ে কাবা আক্রমণ করতে এসেছিল। এর মাধ্যমে আল্লাহর অদম্য শক্তি ও সুরক্ষার প্রকাশ ঘটে।

প্রশ্ন ২: সূরাটির নাম “আল-ফীল” (হাতি) কেন রাখা হয়েছে?
উত্তর: এর নাম রাখা হয়েছে “আল-ফীল” কারণ এতে সেই হাতিওয়ালা বাহিনীর উল্লেখ আছে, যারা কাবা ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় সম্পূর্ণ পরাজিত হয়।

প্রশ্ন ৩: সূরা আল-ফীল থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
উত্তর: সূরা আল-ফীল শেখায় যে, কোনো ক্ষমতা, সম্পদ, বা সেনাবাহিনী আল্লাহর ইচ্ছাকে পরাভূত করতে পারে না; তিনি তাঁর ঘর ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসীদের সর্বদা রক্ষা করেন।

প্রশ্ন ৪: সূরা ১০৫-এ মোট কয়টি আয়াত রয়েছে?
উত্তর: সূরা আল-ফীল-এ মোট ৫টি আয়াত রয়েছে, যেগুলোতে হাতিওয়ালা বাহিনীর ঐশ্বরিক ধ্বংসের বিবরণ আছে।

প্রশ্ন ৫: সূরা আল-ফীলের মূল বার্তা কী?
উত্তর: সূরার মূল বার্তা হলো—অহংকার, আগ্রাসন ও অন্যায়ের পরিণতি ধ্বংস; আর আল্লাহর ক্ষমতা ও সুরক্ষা সর্বোচ্চ ও অপরাজেয়।

প্রশ্ন ৬: সূরা আল-ফীল কখন অবতীর্ণ হয়েছিল?
উত্তর: সূরা আল-ফীল একটি মক্কি সূরা, যা নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত ঐতিহাসিক ঘটনার স্মারক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল।

প্রশ্ন ৭: সূরা আল-ফীল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত?
উত্তর: সূরাটি আমাদের শেখায়—জীবনের প্রতিটি বিপদে আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখতে; কারণ বিজয় ও সুরক্ষা কেবল তিনিই দান করেন।

প্রশ্ন ৮: কেন সূরা আল-ফীল অধ্যয়ন করা উচিত?
উত্তর: এই সূরা অধ্যয়ন করলে ঈমান দৃঢ় হয়, আল্লাহর শক্তি ও ন্যায়বিচারের প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়, এবং অহংকার ও অন্যায় থেকে মানুষ দূরে থাকতে শেখে। 0 0 0