সূরা ১০৭: আল-মাউন (সাধারণ উপকার)-এর শক্তিশালী বার্তা শিখুন—এটি এক কুরআনিক অধ্যায়, যা ভণ্ডামি, নামাজে গাফিলতি এবং দয়া প্রদর্শনে অস্বীকৃতিকে নিন্দা করে, একই সঙ্গে মানুষকে করুণা ও আন্তরিকতার দিকে আহ্বান জানায়।
সূরা ১০৭ : আল-মাউন (সাধারণ দান)
ভূমিকা
সূরা আল-মাউন মানবজীবনের এক গভীর নৈতিক শিক্ষা দেয়। এটি সেই ব্যক্তির চরিত্র উন্মোচন করে, যে ধর্মাচারের ভান করে কিন্তু হৃদয়ে দয়া ও মানবতার বোধ নেই। এই সূরায় আল্লাহ তাআলা এমন লোকদের নিন্দা করেছেন, যারা অনাথদের তাড়িয়ে দেয়, দরিদ্রদের সাহায্যে উৎসাহিত করে না, এবং নামাজ পড়লেও তা শুধুমাত্র লোকদেখানোভাবে করে। সূরার মূল শিক্ষা হলো—সত্যিকারের ধর্মবিশ্বাস শুধু আচার বা প্রার্থনায় নয়, বরং মানুষের প্রতি সহানুভূতিতে, সমাজে ন্যায়বোধে, ও নিঃস্বার্থ সেবায় প্রকাশ পায়।
সূরা আল-মাউন: পাঠ্যাংশ
পরম করুণাময়, অতিশয় দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১) তুমি কি দেখেছ সেই ব্যক্তিকে, যে বিচার দিবসকে মিথ্যা বলে?
(২) সে-ই সেই ব্যক্তি, যে অনাথকে তাড়িয়ে দেয়,
(৩) এবং অভাবগ্রস্তকে আহার দিতে উৎসাহ দেয় না।
(৪) সুতরাং সর্বনাশ তাদের জন্য, যারা নামাজ পড়ে,
(৫) অথচ তারা তাদের নামাজে অমনোযোগী,
(৬) যারা লোকদেখানো কাজ করে,
(৭) এবং সাধারণ দান-সামগ্রী (সাহায্য) প্রদান করে না।
ব্যাখ্যা
সূরা আল-মাউন এক সামাজিক ও নৈতিক ঘোষণাপত্রের মতো। এখানে “মাউন” বলতে বোঝানো হয়েছে ছোটখাটো সাহায্য—যেমন একটি পাত্র ধার দেওয়া, অল্প কিছু খাদ্য বা উপকরণ ভাগ করে দেওয়া—যা সমাজে সহানুভূতি ও সহযোগিতার ভিত্তি।
এই সূরায় আল্লাহ তাআলা তিরস্কার করেছেন সেইসব মানুষকে, যারা ধর্ম ও প্রার্থনার আড়ালে লুকিয়ে রাখে হৃদয়ের কঠোরতা। তারা অনাথ ও দরিদ্রদের অবহেলা করে, আর নামাজকেও শুধুমাত্র লোকদেখানো এক সামাজিক আচার বানিয়ে ফেলে।
এই সূরার বার্তা সর্বজনীন: প্রকৃত ধর্মচর্চা হল ঈমান, দয়া ও দানশীলতার সংমিশ্রণ। যে হৃদয়ে সহানুভূতি নেই, তার প্রার্থনাও আত্মাহীন হয়ে যায়। আল্লাহ এমন নামাজ ও ধর্মাচারকে মূল্য দেন না, যা মানবপ্রেম ও সামাজিক ন্যায়বোধহীন।
You May Like: সূরা ১০২: আত-তাকাসুর (পার্থিব প্রতিদ্বন্দ্বিতা)
সূরা আল-মাউন সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন ১: সূরা ১০৭ : আল-মাউন কী বিষয়ে?
উত্তর: সূরা আল-মাউন সেই ব্যক্তিদের নিন্দা করে, যারা নামাজ পড়ে কিন্তু সমাজে সহানুভূতি ও মানবিকতা চর্চা করে না। এটি মানবপ্রেম ও দানশীলতার গুরুত্ব শেখায়।
প্রশ্ন ২: সূরাটির নাম “আল-মাউন” কেন রাখা হয়েছে?
উত্তর: “আল-মাউন” শব্দের অর্থ “সাধারণ দান বা সাহায্য।” সূরায় বলা হয়েছে—যারা এই ক্ষুদ্র সহায়তাও করে না, তাদের ধর্মবিশ্বাস ভণ্ডামীতে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: সূরা আল-মাউন থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
উত্তর: এই সূরা শেখায় যে ধর্ম শুধুমাত্র আচার নয়; প্রকৃত ধর্ম হল মানবসেবা, দয়া ও আন্তরিকতা। দান ও সহানুভূতি ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
প্রশ্ন ৪: সূরা আল-মাউনে কয়টি আয়াত রয়েছে?
উত্তর: সূরা আল-মাউন-এ মোট ৭টি আয়াত রয়েছে, যা সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর নৈতিক বার্তায় পূর্ণ।
প্রশ্ন ৫: সূরা আল-মাউনের মূল বার্তা কী?
উত্তর: মূল বার্তা হলো—যে মানুষ দরিদ্র ও অনাথের প্রতি নির্দয়, তার নামাজ ও ধর্মচর্চা অর্থহীন; সত্যিকারের ঈমান মানবকল্যাণে প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন ৬: সূরা আল-মাউন কখন অবতীর্ণ হয়েছিল?
উত্তর: সূরা আল-মাউন একটি মক্কি সূরা, যা ইসলামের প্রারম্ভিক সময়ে অবতীর্ণ হয়েছিল, মানবতা ও সামাজিক দায়িত্বের উপর গুরুত্ব আরোপের জন্য।
প্রশ্ন ৭: সূরা আল-মাউন আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কীভাবে প্রযোজ্য?
উত্তর: সূরাটি আমাদের শেখায়—প্রার্থনার পাশাপাশি মানুষের সেবা, দান ও ন্যায়বোধ চর্চা করাই প্রকৃত ধর্মপালন।
প্রশ্ন ৮: কেন সূরা আল-মাউন অধ্যয়ন করা উচিত?
উত্তর: এই সূরা অধ্যয়ন করলে বোঝা যায়, আল্লাহর সন্তুষ্টি শুধু আনুষ্ঠানিক ইবাদতে নয়; বরং দরিদ্র ও অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোতেই নিহিত প্রকৃত ঈমান।
নোট:
যদি আপনি সূরা ১০৭ : আল-মাউন-এর এই সাহিত্যিক অনুবাদ ও বিশ্লেষণ উপভোগ করেন, অনুগ্রহ করে আপনার মতামত জানান। আপনার প্রতিক্রিয়া আমাদের পরবর্তী অনুবাদসমূহকে আরও গভীর ও সমৃদ্ধ করে তুলবে। 0 0 0






